ধনবাড়ী মসজিদ

ধনবাড়ী মসজিদ টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার পৌরসভায় অবস্থিত[১]। এটি ধনবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অন্যতম নির্দশন। যা ধনবাড়ি জমিদার বাড়িতে অবস্থিত।

ইতিহাস

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রথম পুরুষ শাহ আতিকুল্লাহ, বাগদাদ হতে দিল্লীতে আসেন । তৎকালীন দিল্লীর বাদশাহ তার কাছে মুরীদ হন এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলায় বসবাসের জন্য জায়গীর প্রদান করেন। প্রথমে তিনি পাবনা জেলার নাকালিয়াতে বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তী বংশধরগণ নাকালিয়া হতে ঢাকা জেলার হাসমিলানে চলে আসেন। শাহ আতিকুল্লাহ‘র অধস্তন বংশধর শাহ সৈয়দ খোদাবখশ। তার এক ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ শাহ, এক মেয়ে সাইয়িদা তালিবুন নেছা চৌধুরানী। পাঠানদের পতনের যুগে তুর্কীদের জমিদারী ছিল ধনবাড়ীতে। এ বংশের উত্তর পুরুষ ছিলেন রাজা আলী খাঁ সাহেব।

বংশাই ও বৈরান নদীর মাঝখানে অপূর্ব নৈসর্গিক প্রকৃতির মাঝে এ বাড়ির অবস্থান। চন্দ্র বংশীয় রাজা যশোধর সাবেক পুখুরিয়া (বর্তমানে ধনবাড়ি এই পরগণার অন্তর্গত ছিলো) শাসক ছিলেন মোগল আমলে। তার সেনাপতি ছিলেন গৌড়ের সুলতানের ওমরাহ ধনুয়ার খাঁ। তিনি কৌশলে রাজ্যটি দখল করে পুত্র ইস্পিঞ্জার খাঁকে দিয়েছিলেন।

এই ইস্পিঞ্জার খাঁ ও তার ভ্রাতা মনোয়ার খাঁ ধনবাড়িতে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন অবশ্য জমিদারি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অন্য মতবাদও রয়েছে। ধনবাড়ি জমিদার বাড়ির প্রধান আবাস ভবন, কাঁচারি ভবন, তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদ ও কবরস্থান সমন্বয়ে পরিকল্পিত। প্রধান আবাস ভবনটি একটি বেষ্টনি প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত। এর অভ্যন্তরে রয়েছে প্রশস্ত একটি বাগিচা। ধারণা করা হয় ইস্পিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ ছিলেন ধনবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। মসজিদটি ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিলের বাইরে দিঘির পাড়ে অবস্থিত।